আইএসআইএসের অনুগত নারী জেসিকা বোয়ির রোমহর্ষক বোমা হামলার ছক এবং গোয়েন্দা জালে আটকা পড়ার চাঞ্চল্যকর আদ্যোপান্ত।
![]() |
গোপন ফাঁদে যেভাবে ধরা পড়ল ৩৫ বছর বয়সী জেসিকা বোয়ি। |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক আর চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় বড় ধরনের এক বিপর্যয় ঠেকিয়ে দিয়েছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
নিউইয়র্কের স্টেট ক্যাপিটল ভবনে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে আইনপ্রণেতা ও সিনেটরদের হত্যার এক নৃশংস ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক মার্কিন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম জেসিকা বোয়ি, যিনি নিউইয়র্কের আলবানির স্থায়ী বাসিন্দা।
মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআই সূত্রে জানা গেছে, বোয়ি দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচারের জন্য এক ডজনেরও বেশি ফেক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। ২০২১ সালের প্রাণঘাতী ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, জেসিকা সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার আগে স্টেট ক্যাপিটল ভবনকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিতে এবং একাধিক সিনেটরকে চিরতরে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। ২১ পৃষ্ঠার এক বিস্তারিত অভিযোগপত্রে এফবিআই জানিয়েছে, গোপন তথ্যদাতারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে বোয়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এমনকি হোম ডিপো হার্ডওয়্যার স্টোর থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম কেনার জন্য তাকে অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়।
ক্যাপিটলের বাইরে বোয়ির সেলফোনে ছবি তোলার 'রেকি' অপারেশনের তথ্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র কেনার প্রমাণও হাতে পেয়েছে এফবিআই। আটকের পর জেসিকা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি যে কুখ্যাত ২০ বছরের জেল হতে পারে, তা তিনি আগেই গুগল করে জেনেছিলেন।
গোপন গোয়েন্দা কৌশল ও 'স্টিং অপারেশন' নিয়ে তীব্র বিতর্ক মার্কিন প্রশাসনের
