Top News

খালেদা জিয়ার অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি; দেশে ফেরা নিয়ে তারেক রহমানের 'একক নিয়ন্ত্রণ নেই'


মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে চলছে পরবর্তী পদক্ষেপ, প্রস্তুত ভিসা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স; তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের আপত্তির খবর অস্বীকার প্রেস সচিবের।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
           খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশে নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন।

খালেদা জিয়ার অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি, দেশে ফেরা নিয়ে তারেক রহমানের 'একক নিয়ন্ত্রণ নেই।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে চলছে পরবর্তী পদক্ষেপ, প্রস্তুত ভিসা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স; তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের আপত্তির খবর অস্বীকার প্রেস সচিবের।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও বিদেশে চিকিৎসা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। সিসিইউতে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে খালেদা জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউকে, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, চায়না এবং আমেরিকার জন হপকিন্স ও মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চিকিৎসকদের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে তার চিকিৎসা অব্যাহত আছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শুক্রবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য ভিসা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্যও যোগাযোগ করা হয়েছে ।

তবে এর আগে তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে হবে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও জানান, সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও, তিনি এখনো 'ফ্লাই করার' মতো শারীরিক পরিস্থিতিতে নেই।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন । শারীরিক অবস্থা: 'সংকটাপন্ন, তবে স্থিতিশীল'

২৯ নভেম্বর দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও চিকিৎসকের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন) হলেও স্থিতিশীল’ আছে।

তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ২৯ নভেম্বর রাতে জানান, গত তিন দিন ধরে (২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর) তাঁর অবস্থা একই পর্যায়ে আছে এবং চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেটি তিনি গ্রহণ করতে পারছেন।


তিনি সজ্ঞানে আছেন এবং চিকিৎসক-নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন বলেও জানানো হয়েছে।

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে সংকটময় করে তুলেছে।

আমেরিকার জন হপকিনস হাসপাতাল, লন্ডন ক্লিনিকসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৯ নভেম্বর জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি (ভিসা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে যোগাযোগ) সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি নেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে এবং মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসকরা এবং দলের সিনিয়র নেতারা হাসপাতাল এলাকায় অযথা ভিড় না করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।

সার্বিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশে ফেরা নিয়ে তারেক রহমানের 'একক নিয়ন্ত্রণ নেই।'
মা গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কেন দেশে ফিরছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন আলোচনার মধ্যেই তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জানান, এমন সংকটকালে মায়ের পাশে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও, "এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের এই বিবৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা এর পেছনে বড়ো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের তরফ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বিধিনিষেধ অথবা আপত্তি নেই।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন